
নিজস্ব প্রতিবেদন
নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মিরপুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ছড়াল ভিডিও–বিতর্ক
ঢাকা–১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামির মনোনীত প্রার্থী কর্নেল আব্দুল বাতেনের নির্বাচনী প্রচার ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর ৭ নম্বর এলাকায় প্রচার চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে দলটির কর্মী ও সমর্থকরা। একপর্যায়ে জনতার তোপে পড়ে প্রচার কার্যক্রম ভেস্তে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রচারের সময় জামায়াতের কর্মীদের হাতে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র চাইতে দেখা গেছে এবং ভোটের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব বিষয় সামনে আসতেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট আচরণবিধি উপেক্ষা করেই ওই এলাকায় প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, যা নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওতে জনতার প্রতিবাদ, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, ঘটনার ভিডিওটি সাংবাদিক এস এম রফিক তার ফেসবুক পেজে প্রকাশ করার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামির কিছু কর্মী ও সমর্থক ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে ফোনে সাংবাদিক এস এম রফিকের সঙ্গে কথোপকথনও হয়, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরবর্তীতে ভিডিও ও ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ একাওর ডটকম (BangladeshEkhon.com)–এর মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হলে সেটিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। বিভিন্ন মহলে এ ঘটনায় সাংবাদিকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয়রা জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে আনছেন। তাদের বক্তব্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বাঙালি জনগণের ওপর সংঘটিত নির্যাতনে সহযোগিতা করে। সেই ইতিহাস আজও মানুষের স্মৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা কীভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার দাবি করে? এই প্রশ্ন এখন ঢাকা–১৬ আসনের ভোটারদের মাঝেও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, জামায়াতে ইসলামী কখনোই জনগণের প্রত্যক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। বরাবরই তারা ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির আশ্রয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের দায়, আদর্শগত সংকট এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণেই সাধারণ মানুষ ক্রমেই জামায়াতের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। ঢাকা–১৬ আসনের এই ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, নির্বাচনীয় স্বচ্ছতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস মানতে রাজি নয়
সচেতন জনগণ।
Leave a Reply